. দীক্ষা একটী পরমজন্ম, এই জন্মের পিতা গুরু, মাতা বাহ্যজগতের অভিজ্ঞতা (বিশিষ্ট জ্ঞান), শ্রদ্ধা তাহাদিগের প্রকৃতপ্রেম, শুক্র প্রণবযুক্ত বীজ, শোণিত বিশ্বের মনোহর ভাব এবং জন্মভূমি পরমেশ্বরের পরম প্রেমময় অঙ্ক-দেশ। দীক্ষারূপ জন্ম যাহার হয় নাই, তাহার পক্ষে নরজন্ম বিফল।
মহাত্মা নিবারণ মাতাজী পরলোকগমনের পর হইতে এতকাল ধরিয়া দীক্ষা রূপ পরমজন্ম হয় নাই। তাহা কেন এবারটী দেখিয়া লন।
সত্যধর্ম্ম তৃতীয় পরিচ্ছেদে "ওঁং সত্যং পূর্ণমমৃতং ওঁং" এই শব্দ দেওয়া হইয়াছে, ইহা দীক্ষা নহে, ইহা সংস্কৃত ভাষা এবং সর্বোপরি সর্ব্বসম্মূখে আছে কিন্তু দীক্ষা বীজ সর্ব্বসম্মূখে থাকে না। কেননা দীক্ষা বৈজিক ভাষায় হয় সুতরাং বীজ গুণানুসারে পৃথক্ পৃথক্ ভাবে হয়। অতএব সকলার বীজ এক হয় না।
মহাত্মা নিবারণ মাতাজী অগত্যা সাধারণ ভাবে কাজ চালাইবার জন্য যে ছয়জনকে এই সংস্কৃত শব্দের অর্ধাংশ দিবার অনুমতি প্রদান করিয়া যান। কেননা ঐ সময় কেহই একত্ব প্রাপ্ত হন নাই সুতরাং ঐ ১৩টীর অধিক গুণ সম্পন্ন কেহই হয় নাই তাই এইরূপ পন্থা করিয়া যান। তিনি ১৩৬৩ সালে বড়মগরা বসন্তোৎসবে বসিয়া নিজ হাতে লিখিয়া মায় যে উহা "দীক্ষা" নহে উহা "নাম" প্রদান মাত্র।
সত্যধর্ম্মে দীক্ষা হয় পাপ গ্রহণ ও অভেদ জ্ঞান করিয়া।
চারিদিকে দেখা যাইতেছে যাহাদের এখনও দীক্ষা হয় নাই তাহারাই আবার নাম দান করিয়া কৃতিত্ব অর্জন করিতেছে। ১৩টীর অধিক গুণের প্রয়োজন উহা আড়াল করিয়া সবার সম্মূখে নানান গল্প ফাঁদিয়া নিজের একটী জায়গা করিয়া বসিয়াছে। এবস চলিতে পারে না। সত্যধর্ম্মে উন্নত না হইলে কিছুই করা সম্ভব নহে। সব লিপিবদ্ধ করিয়া গিয়াছেন গুরুদেব সুতরাং অন্ধকারে থাকিবার প্রয়োজন কি? গুণী হইলে তাহা সবার সম্মূখেই প্রকাশ পায়। যে যে অবস্থা গুরুদেব থাকাকালীন হইয়াছে তাহা এখন হইতেছে কিনা দেখিলেই হয় তাহা হইলেই পরিস্কার হইয়া যাইবে ঠিক কি ভূল। গুরুদেব লিপিবদ্ধ করিয়াছেন আদিষ্ট চিনিবার বৈশিষ্ট্য। উহা দেখিলেই ত হয়।
প্রায়শই দেখা যায় কার্য্য না করিয়া ফলের আশা। তাহারাই আবার নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করিবার প্রয়াসে ব্যাস্ত থাকে। উহাতেই ধর্ম্মের বিপত্তি আইসে। আজ ইহারই জন্য সত্যধর্ম্মের এই কলুষিত ময় অবস্থায় পরিনত হইয়াছে।
এইরূপ আর চলিতে পারে না। সকলকে আহ্বান জানাই এই অন্ধকার অবস্থা হইতে বাহির হইয়া প্রকৃত উন্নতি যাহাতে হয় তাহার জন্য যত্নবান হই। কেননা সহজ ভাবে এবং অল্প সময়ে উন্নতি একমাত্র সত্যধর্ম্মেই আছে।
যাঁহারা প্রকৃত ভাবে দীক্ষা লাভ করিয়াছে একমাত্র তাঁহারাই বুঝিতে পারিবে দীক্ষা রূপ জন্মের অনুভূতি। পাপ হতে মুক্তি ও বীজের মাহাত্ম্য।

0 মন্তব্যসমূহ