সেই সত্যনিষ্ঠ ঈশ্বর আদিষ্ট মহাত্মার নামে সেই ভূমি অধিগ্রহণ মিথ্যার উপর দাঁড়াইয়া কেন হইল???
বর্তমানে বেন্দা ভূমি এখনও ঐরূপ মিথ্যাচার বহন করিতেছে। ইহা কেন? যাহারা ইহা করিল তাহারাকি সত্যের কথা এবং গুরুদেবের সম্মান ও তাঁর বানীর বিষয় ভূলিয়া গিয়াছিল???
শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ কি একবার দেখিবেন না? নিজ স্বার্থ সিদ্ধির জন্য সত্যধর্ম্মের নামে এইরূপ মিথ্যাচার কেন হইল???
গুরুদেবের বাসভূমি নদী গর্ভে সমায়িত হয়। নদী গতিপথ বহু বৎসর ধরিয়া দূরে সরিতে থাকে এবং চড়া পড়িয়া বিরাট সমতল ভূমিতে পরিণত হয় উহা দেশের নিয়ম অনুরূপ সরকারি ভূমিতে পরিণত হয়। উহারই কিছু ভূমির অংশ বিশেষ নির্ধারিত করিলেন যে গুরুনাথের ঐ অংশে বাসভিটা ছিল সুতরাং তথাকথিত সত্যধর্ম্মের ব্যাক্তি। বিশেষ করিয়া প্রধান ভূমিকায় ছিলেন দিলীপ বিশ্বাস, নিখিল হীরা, হৃষিকেশ সরকার ও হরেন্দ্র নাথ সরকার আরও অনেকে যাহারা ঠিক করেন ঐ জমি আমাদের আমরা অধিগ্রহণ করিব। তাহারপর সোচ্চার ও তদারকি শুরু হইল। অধিগ্রহণ করিতে বাঁধা সৃষ্টি হইল সরকারি নিয়ম। নিয়ম মোতাবেক এক উকিলের পরামর্শ নেওয়া হয় তাহাকে সকলে বলিল এই ভূমি আমাদের গুরুদেবের ভিটেমাটি ইহা সুনিয়া ঐ উকিল সরকারি নিয়ম অনুরূপ বলিলেন আপনাদের গুরুদেবকে সরকার চেনেন না অতএব এইভাবে সরকার জমি অধিগ্রহণ করিতে সম্মতি দিবেন না। উকিল পরামর্শ দেন যে হিন্দু ধর্ম্মের ন্যায় মূর্ত্তি প্রতিষ্ঠা করিয়া পূজা অর্চনা করিতে থাকেন এবং আস্তে আস্তে অধিগ্রহণ করিতে পারিবেন ইহা আইনে আছে। ইহা সুনিয়া ঐরূপ সহজ মিথ্যার পথেই চলিতে উদ্যত হইল প্রধান উদ্যোক্তেরা।
প্রথম মিথ্যাচার- একে ত সত্যধর্ম্মীরা হিন্দু না কেননা যে চারিটি স্তম্ভের উপর দাঁড়াইয়া আছে সত্যধর্ম্ম তাহা এই যে সাকার উপাসনা নাই, যোগসাধন নাই, জাতিভেদ নাই এবং ঈশ্বরে লিন হওয়া নাই কিন্তু হিন্দু ধর্ম্মে ঐ চারিটি বর্তমান সুতরাং সত্যধর্ম্মীরা হিন্দু নহে তবুও সেই উকিলের কথা সকলে শুনিল।
দ্বিতীয় মিথ্যাচার- গুরুদেব বলিয়াছেন কল্পনা মাত্র মিথ্যা, মিথ্যা মাত্রই পাপস্পর্শ হয় জানিবে। সেই কল্পনার মূর্ত্তি প্রতিষ্ঠা করিয়া জমি অধিগ্রহণ করা হইয়াছিল।
তৃতীয় মিথ্যাচার- সত্যধর্ম্মের নিয়মে দান গ্রহণ বা জোর করিয়া দখল করা যায় না। কেননা সত্যধর্ম্ম দিতে আসিয়াছে নিতে নয়।
চতুর্থ মিথ্যাচার- কপটতা মহাপাপের মূল সুতরাং ছলনা, কপটতায় জমি অধিগ্রহণ করা হইয়াছে।
পঞ্চম মিথ্যাচার- এখনও এই মিথ্যাচার নানান আষাঢ়ে গল্প ফাদিয়া বহাল তবিয়তে কল্পিত ছবি রাখিয়া উৎসবাদি সুসম্পন্ন হইতেছে ইহা কেন??
এইরূপ মিথ্যাচার করিয়াও ইহারা নাকি নিজেদের সত্যধর্ম্মী বলিয়া পরিচয় দিতেছে। সত্য সবার সম্মূখে তবুও সকলে নির্বিকার কেন?? এগুলো কি কেহই জানেন না? কেন ইহার প্রতিবাদ করা হইল না??
ভারতে প্রথম সত্যধর্ম্মের জমি দান করে ভারত সরকার জানা আছে কি? কাঁচরাপাড়ার কাঁটাগঞ্জে কয়েকজন গুরুভাই বসবাস করিতেন একদিন উপাসনা শেষে রাত হয় বাড়ি ফিরিতে। বেশ কয়েকজন গিয়াছিলেন উপাসনাতে। ফেরার পথে প্রভাস সেনগুপ্ত, নারান রায় আরও কয়েকজন একই সঙ্গে জঙ্গলে দিখিতে পায় গুরুদেব ধ্যানে বসিয়া আছেন আর জঙ্গল আলোকিত কিছুক্ষণ সময়ের জন্য এই দেখিয়া সকলেই ঐ সময় ঐ স্থানে বসিয়া ব্যাকুল ভাবে কিছুক্ষণ উপাসনা করিলেন এবং সকলেই বলিলেন এই স্থানে মন্দির স্থাপন করিতে হইবে। পরে জানিতে পারে ঐ স্থান সরকারের। সকলের সৎ ইচ্ছায় সত্যনিষ্ঠায় যাহাতে ঐ জমি পাওয়া যায় তাহার জন্য নানান আইন কানুন ঘাটিয়া বাহির হয় ঐ জমি পাওয়া সম্ভব তাহার পর তদারকি শুরু হইল জমি অধিগ্রহণের জন্য। ভারতীয় সত্যধর্ম্ম মহামণ্ডল নামে ঐ জমি সরকার হস্তান্তর করে দুইকাঠা জমি। মূল বিষয় হইল সত্যনিষ্ঠা ঠিক থাকিলে এবং মূখ্য ঠিক রাখিলে সঠিক গন্তব্যে পৌঁছাতে অসুবিধা হয় না। হ্যা যা যা হইয়া ছিল তাহা বিস্তারিত সরকারের কাছে জানাইয়া আবেদন করেন নিয়ম মোতাবেক তাহাতেই কাজ হইয়াছিল। এখানে যখন সত্যের সঙ্গে কাজ হইতে পারে তখন বেন্দায় কেন হইল না?? হ্যা বেন্দার বহু বৎসর আগেই ভারতের কাঁটাগঞ্জের ঘটনা সকলে দেখিয়া আসিতে পারেন ভারতের প্রথম গুরু মন্দির।
আপনারা কি সত্যকে এই ভাবে কলুষিত হইতে দিবেন?? আসুন এইরূপ মিথ্যাচার বন্ধ করি। যাহারা এইরূপ করিল ও করিয়া যাইতেছে তাহাদের মুখোশ খুলিবার সময় হইয়াছে। সকলকে বলিতেছি একবারটি ইতিহাস পরিক্ষা করিয়া দেখুন সত্য সকলই সম্মূখে আসিবে। এই ভাবে সত্যের প্রচার হয় না।
এখানে যেভাবে সত্য সবার সম্মূখে আনিতেছি ইহাতে বহু লোকের একটি কথা উপস্থিত হইতেছে আপনারা ভালো কিছু কথা বলুন কিন্তু অষ্টপাশ ষড়রিপু দমন না হইলে পরমপিতার দর্শন সম্ভবপর নহে সুতরাং সত্যধর্ম্মের অন্দরে এত কলুষিত হইলে কি করিয়া সত্যের প্রচার হইবে? একদিন না একদিন বলিবেই সত্যের কথা বলিতেছেন আপনারাই ত সত্য মানিতেছেন না তখন কি ভাবে সম্মান থাকিবে? একবারটী ভাবিবেন না??
সত্যধর্ম্ম ও গুরুদেবের অপমান এইভাবে চলিতেছে আর সকলে নির্বিকার ইহা চলিতে পারে না। সকলে সত্যনিষ্ঠার সঙ্গে একবারটি ভাবুন কি হইতেছে।

0 মন্তব্যসমূহ