নির্ভরতা
নির্ভরতা শব্দ শুনিবা মাত্রই মনে শান্তি ও সুখানুভূতির স্পর্শ হৃদয়ে আন্দোলিত করে। যে গুণের শক্তিতে সকলি তুমি আমি বলিয়া ভেদ থাকে না জীবনে অভিনব রস সঞ্চারে মধুময় ভাবের উদয় হয় এবং শিশু সুলভ সরল গুণের প্রকাশ পায়। সেই অমূল্য সম্পদের সন্ধান পাইয়াও কেন বিমুখ হইয়া পড়িয়া রহিব?
নিজের ভার গুরুর চরণে অর্পণের নাম নির্ভরতা।
একটি টাকা যদি কোনও ব্যাক্তিকে দেওয়া হয় তাহা হইলে ঐ টাকার প্রতি অধিকার আর থাকে না। তেমনই গুরুর চরণে নিজেকে সমর্পণ করিলে নিজের স্বাধীনতা প্রয়োগ করিতে নাই করিলেই পতন অনিবার্য।
আসলে স্বার্থ আমাদের গ্রাস করিয়া খাইতেছে তাহা জন্ম জন্ম ধরিয়া চলিয়া আসিতেছে উহা অভ্যাসে পরিণত হইয়া গিয়াছে। গুরু যতই চেতনার সঞ্চার করুক না কেন কিছুই বোধগম্য হয় না। যাহাদের হয় তাঁহারা অমৃতের সন্ধান প্রাপ্ত হয়।
গুরু যখন যাহা বলিবেন তাহার দোষগুণ বিচার করিতে নাই করিলেই পতন অনিবার্য। কিন্তু দেখা যায় গুরু যদি কিছু বলেন তাঁহার প্রশ্নের উপর কেন? কি কারণে? এইসব নানারূপ মন্তব্য প্রয়োগ করা শুরু হইয়া যায়, ইহাতে শিষ্যের কিছু মাত্র উন্নতি হইবার সম্ভাবনা নাই।
সকলে যাহা পবিত্র বলে গুরু তাহা নিষেধ করেন আর লোকে যাহা পাপ বলে গুরু তা করিতে বলেন অম্লান বদনে প্রফুল্ল মুখে করিতে হয়। এই মহান বাক্য যে সাধক সাধিকা শুনিয়া চলিয়াছে তাহারাই একত্ব লাভ করিয়াছেন। কেননা গুরুই জানেন শিষ্যের বর্তমান, ভবিষ্যৎ ও অতীত অতএব কোন শিষ্যের কোন বিষয় বলিলে প্রকৃত মঙ্গল হইবে তাহা বিচার করিয়াই বলিয়া থাকেন কেননা ঐ শিষ্যের উন্নতির দায় ভার তাঁহার সুতরাং তিনি শুধু উপদেশ টুকুই দিতে পারেন কেননা শিষ্যের উপর স্বাধীনতা প্রয়োগ করিতে পারেন না করিলে পাপ হইয়া বসে উহাতে শিষ্যের প্রভূত ক্ষতি হইয়া বসে এবং ধর্ম্ম ত্যাগ পর্যন্ত করিয়া বসে। ইহাতে গুরুর দ্বায়িত্ব বাড়িয়া যায় কেননা শিষ্যকে যখন দীক্ষা দেওয়া হয় তখন পরমপিতার কাছে অঙ্গীকার বদ্ধ হন যে এই শিষ্যের উন্নতির দায় আমার অতএব শিষ্যকে শুধু উপদেশ দিয়া যাইতে হয় তাহাতে তাহার যাহা কাজ হয়।
সকলকে অনুরোধ করি একবার গুরুর উপর নির্ভর করিয়াই দেখা যাউক না। সত্যি উন্নতি হয় কিনা???

0 মন্তব্যসমূহ