আত্মার খাদ্য গুণ।


 


অস্তিত্ব রক্ষায় প্রয়োজন এর ভূমিকা আছে, আমাদের শরীরের কার্যকারিতা খাদ্যের ওপর নির্ভরশীল তেমনই 'আত্মার খাদ্য গুণ'।দেহ,প্রাণ এবং আত্মা একই সাথে অবস্হান করে কিন্তু এক বিষয় না। সত্য ধর্ম্মে এর বিজ্ঞান সম্মত ব্যাখ্যা আছে।

দেহ যদি আত্মা হতো তাহলে যতসময় দেহ থাকতো আমাদের মৃত্যু হতো না কিন্তু বাস্তবে তা হয় না।আত্মা চলে যায় আর নিথর দেহ পরে থাকে। অন্যদিকে হৃৎপিণ্ডের সংকোচন এবং প্রসারনের মাধ্যমে আমাদের জীবিত রাখে সেই যান্ত্রিক অংশ প্রাণ। প্রাণকেন্দ্রে আত্মার বাস। চৈতন্য শক্তি আত্মাকে নিয়ন্ত্রণ করে,তাই গুণ অনুসারে সকলের বৈশিষ্ট্য ভিন্ন হয়।
চিকিৎসাবিদ্যা অনুসারে কোন ব্যক্তির মৃত্যুর পর হৃৎপিণ্ডের প্রতিস্থাপন হয়, তখন আত্মা থাকে না তাই মৃত্যু ঘটে কিন্তু প্রাণ কখনো কখনো জীবিত থাকে।সেই হৃৎপিণ্ডের প্রতিস্থাপন হলেও আত্মা ভিন্ন থাকায় তার গুণানুসারে বৈশিষ্ট্য আলাদা হয়।

জন্ম জন্ম ধরে গুণের অভাবে আত্মা অতৃপ্ত থাকে।আমরা কখন তৃপ্তি লাভ করি ? আগে যে কাজটি আমি পারতাম না,এখন যদি পারি,জ্ঞান ,প্রেম, ভক্তি, দয়া,কৃপা, সরলতা, পবিত্রতা, বিশ্বাস, কৃতজ্ঞতা, নিরাময়,ক্ষমা, একাগ্রতা,দৃঢ়তা প্রভৃতি গুণের প্রভাবে আত্মা সুখী হয়।আত্মার চাহিদা গুণ।অজ্ঞানতা বশত আমরা এই সত্য বুঝতে সমর্থ হই না। উপরন্তু অষ্টপাশ ষড়রিপুর তাড়নায় পাপে লিপ্ত হই যার ফলস্বরূপ আত্মার চারপাশে একটি আবরণ সৃষ্টি হয়,আত্মা বহু ক্লেশ ভোগ করে কারন আমরা তাকে ভালো কিছুর জোগান দিতে ব্যার্থ হই।

সত্য ধর্ম্মের গুরু এই সংকটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ দেখানোর যোগ্যতা রাখেন। গুরু পাপগ্রহণ এবং অভেদ জ্ঞান পূর্বক সেই মুক্তি বীজ প্রদান করেন। উপাসনা এবং সাধনার মাধ্যমে গুণের অভ্যাস করিয়ে নেন।

 পার্থিব ভাবে একটি বীজের পরিপূর্ণতা লাভের উপযুক্ত উপাদান যেমন জল,মাটি,কার্বন ডাই অক্সাইড, সূর্যালোক প্রয়োজন তবেই গাছে ফুল হবে,ফল ধারন করবে। প্রকৃত ব্রহ্মবীজ না পেলে এসব বিষয় নেই কিন্তু পাওয়ার পর গুণের অভ্যাস দ্বারা এবং উপাসনা দ্বারা গুণী হওয়ার ইচ্ছা অব্যাহত রাখতে হয়। সঠিক পরিচর্যা করতে পারলে গুণ সাধ্যের মধ্যে আসে, সিদ্ধি লাভ হয়।

জন্মসূত্রে আমরা সবাই সাধক । ভালো হোক বা মন্দ আমরা চাই তো সেই চাওয়াই সাধনা।যেমন যিনি এম.এ পাশ করেছেন তিনি স্বাক্ষর আবার যিনি কেবল নাম সই করতে পারেন তিনিও স্বাক্ষর।আত্মার চাহিদা অনুরূপ সাধনায় ফল লাভ হয়।তাই এই মহান কার্যে সঠিক পথ প্রদর্শক এর প্রয়োজন।

গুণ খাদ্য দ্বারা যদি আত্মার চাহিদা পূরণ করা যায়, শরীর সুস্থ থাকতে বাধ্য। অনায়াসে হয় না তো গুণী হতে চাইলে পরিশ্রম করতে হয়।

করোনা ভাইরাস এর আক্রমনে যখন সমগ্র বিশ্ব ভিতীগ্রস্ত, চারপাশে মৃত্যুর হাহাকার! আমাদের প্রবর্তক গুরু বর্তমানে সত্য ধর্ম্মের প্রচারক তিঁনি কথা দিয়েছেন যারা দীক্ষিত তারা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হবে না।এই সংক্রামক রোগীর পাশে থেকেও দীক্ষিত অনেকের সত্যিই করোনা হয়নি। সত্য ধর্ম্মের গুরু যে বিশ্বকে স্থিতী করতে পারেন তার প্রমাণ কেবল আমরা পেয়েছি। গুরুদেবের ভবিষ্যৎ বানী সত্য আমরা ওই সংকটময় পরিস্থিতিতে ১০০ দিনের অধিবেশন করি, আমাদের প্রবর্তক গুরু আমাদের দিয়ে করিয়ে নেন।

ওই সময়ের মধ্যে আমাদের প্রবর্তক গুরু সত্য ধর্ম্মের অতিমুল্যবান তত্ত্ব প্রতিটি গুণের চিন্তা কিভাবে করতে হবে তার সংজ্ঞা সাবলীল ভাষায় আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আবিষ্কার করেন যার শুভফলে এই পৃথিবীবাসী ধন্য হবেন, ইতিহাসের পাতায় স্বর্নাক্ষরে লেখা থাকবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ