সঙ্কল্পবদ্ধ সেবা।




অভ্যাস দ্বারা কোন কার্য সিদ্ধির প্রথম লক্ষণ হলো আমার হবেই হবে,আমি পারবো।এই দৃঢ়তায় সঙ্কল্পবদ্ধ হয়ে কার্য শুরু করতে হয়।
নিষ্ঠা ভক্তির অংশ, সহজ জ্ঞান, নির্ভরতা এবং বিশ্বাস সহযোগে গুরুবাক্য পালন করা নিষ্ঠার বৈশিষ্ট্য সেখানে অধৈর্যের কোন স্হান নেই।বিচলিত না হয়ে,সঙ্কল্পে অতিযত্ন সহকারে বদ্ধ হয়ে কার্য সম্পন্ন করাই হলো 'সঙ্কল্পবদ্ধ সেবা'।
জন্মসূত্রে আমরা অষ্টপাশ ষড়রিপু যথা কাম,ক্রোধ,লোভ, মদ, মাৎসর্য্য ইত্যাদি সহ পিতৃকুল এবং মাতৃকুল এর পাপ জিনগত ভাবে রক্তের মাধ্যমে নিয়ে জন্মগ্রহণ করি। মাতৃগর্ভে থাকাকালীন এবং ভূমিষ্ট হওয়ার সময় মা কে যে অপরিসীম ব্যাথা দেওয়া হয় তার দরুন আমাদের পাপ হয়ে বশে। তাই অতি উন্নত মহাত্মাগণ নিজ ইচ্ছায় জন্মগ্রহণ করতে চান না যদি কিনা পরমপিতার ইচ্ছে না হয়।
বৃদ্ধ বয়সে পিতামাতার সেবার প্রয়োজন হয়। সত্য ধর্ম্মের মতে পার্থিব ভাবে কেবল পিতামাতার যত্ন করলেই প্রকৃত সেবা হয় না।পিতামাতাকে মনে ব্যাথা না দিয়ে যদি সত্য বোঝানো যায় যাতে তাদের আত্মোন্নতি হবে,যেমন পিতামাতা যদি কল্পিত দেবদেবীর মূর্তি পূজা করেন তাহলে তাকে সত্য বোঝাতে হবে সাবধানে নতুবা ভক্তি সংকটে পতিত হয়ে নরকগামী হতে হয়।গুরুর জ্ঞানরূপ ধারালো অস্ত্র দিয়ে যদি নিজের অজ্ঞানতা দূর করা যায় তবে সেবা করা যায়।
গুণ অর্জন এর শিক্ষাকেন্দ্রে শিক্ষার্থী কমসংখ্যক থাকে কারন গুণী হতে পরিশ্রম করতে হয়,দোষ অনায়াসে প্রবেশ করে।ব্রহ্মদর্শী আদীষ্টের উপস্থিতিতে আমাদের উৎসবে আত্মার সাথে পরমআত্মার মিলনের মেলা থাকে যেখানে গুণ বিরাজমান। বীর্য ধারন করে রাখতে সক্ষম এমন জ্ঞানী এবং প্রেমিক মহাত্মা সঙ্কল্প বন্ধ সেবায় নিয়োজিত হন।তাঁকে সকল পারলৌকিক মহাত্মা এবং সর্বোপরি পরমেশ্বর সাহায্য করেন।সকল কার্যের সঙ্কল্প রূপ বেদী তাঁর সুন্দর হয় তাই সেবা অর্থাৎ কার্য সুসম্পন্ন হয়।
প্রতিটি জন্মের পিতামাতা পৃথক হন।নিজে উন্নতি করে তাদের দিয়ে আত্মোন্নতি করানোর ইচ্ছায় যদি সঙ্কল্প বন্ধ হওয়া যায় তবে পরবর্তীতে ক্রমশ আত্মায় গুণের অভ্যাস করার প্রবনতা থেকে যায়। আমাদের প্রবর্তক গুরু বর্তমান সত্য ধর্ম্মের প্রচারক যিঁনি আদীষ্ট হয়ে জগতের মঙ্গল সেবায় সদা নিয়োজিত তাঁর সঙ্কল্প সত্য ধর্ম্মের মধ্যে যে মিথ্যাচার চলছে তাকে বন্ধ করা,সেই সত্য নিষ্ঠ দৃঢ় সঙ্কল্প একের পর এক সেবায় পরিনত।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ