ধর্ম্মের নাম সত্যধর্ম্ম সুতরাং সত্যকে অবলম্বন না করিলে এপথে অবস্থিতির উপায় নাই। অতএব সত্যকে অবলম্বন যে করেন তিনিই ধার্ম্মীক। ধর্ম্ম কথার অর্থ ধারণ করা অপর ধর্ম্ম অর্থ পথ। ধর্ম্ম অন্তরের বিষয়, সাধকের প্রথম প্রথম কিছুই লক্ষিত হয় না কিন্তু ধিরে ধিরে গুণ ধারন অথবা অর্জনের পথ অবলম্বন করিলে সাধকের গুণের বিকাশে এবং আত্মোন্নতি পরিলক্ষিত হয়।
গুণ অর্জনের জন্য কঠোর পরিশ্রম করিতে হয়। বিনা পরিশ্রমে কিছুই লব্ধ হয় না। ছলনা দ্বারা মহত কার্য্য হয় না কিন্তু চারিদিকে কপটতা, ছলনা দ্বারা নিজের ব্যার্থতাকে আড়ালে রাখিয়া আধিপত্য কায়েম করিয়া প্রধান ভূমিকায় উপস্থাপন করে। উহার অনুগামী যাহারা সকলারই অমঙ্গল সাধিত হইতে থাকে। যিনি উহা করেন তার পাপ এতটাই যে তাহার পাপবোধ থাকে না বলিয়া দিনেরপর দিন নানা ছলে নানা গল্পে সরল মানুষকে নিম্নগামী করিতে থাকে। তাহাদের সম্মূখে সত্যের আয়না অর্থাৎ সত্যধর্ম্মের নিয়ম ও গুরুর আজ্ঞা তুলিয়া ধরিলে ক্রোধান্বিত হইয়া তিব্রতা বা বিপরীত মূখী চলিতে থাকে ( অপশব্দ বা ভিত হইয়া আড়াল করিবার প্রয়াস করেন)। ইহারা সত্যকে ভয় পায়, কেননা পরিশ্রম ও ত্যাগ কিছুই তাহারা করিতে পারেন না। তাহারা লোভের বশীভূত হইয়া আপন স্বার্থ সিদ্ধির জন্য আধিপত্য বিস্তার করিয়া সরল সোজা মানুষকে ধর্ম্মের ভূল ব্যাখ্যা করিয়া বোঝায়।
যে যে অপগুণের জন্য সত্যকে ভয় পায়।
১) যাহারা উপাসনা করে না।
২) অলসতা পূর্ণ ব্যাক্তি।
৩) সত্যের জ্ঞান বিহীন ব্যাক্তি।
৪) যাহারা কল্পনায় ভাসিয়া থাকে।
৫) যাহারা মিথ্যা পরংপরায় আবদ্ধ।
৬) সত্যধর্ম্মের গ্রন্থ অধ্যায়ন করে না।
৭) গুরুবাক্য অমান্যকারী।
৯) যোগ্যতা বিহীন আধিপত্য কায়েমকারী।
ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি। ব্যাক্তি গণ।
প্রকৃত গুণীজনকে ইহারা ভয় পায়। নিজেদের ব্যার্থতা তাঁহার কাছে উন্মোচিত হইবে বলিয়া। ইহার জন্য নানান কৌশল করিতে উদ্যত হন। তাহার আধিপত্য বজায় রাখতে প্ররোচনা মূলক বিবৃতি কায়েম করেন। যাহাতে ঐ সত্যের কাছে না যাইতে হয়।
গুণী না হইয়া সত্যের কাজ হয় না সুতরাং পরমন্নতি না হইলে জগতের বিশেষ উন্নতি হয় না। আর সত্যের আদিষ্ট হইতে হইলে বহু গুণে গুণান্বিত হইয়া পরমপিতার দর্শন এবং আদেশ ও গুরুর আদেশ লইয়া সত্যধর্ম্ম প্রচার করিতে পারেন।

0 মন্তব্যসমূহ