সত্যধর্ম্ম ইহলোকের কোনও ধর্ম্মের মধ্যে পড়ে না।


 

    সত্যধর্ম্ম অবলম্বীগণ ইহলোকের কেনও ধর্ম্মের মধ্যে পড়ে না।

   এই বিশুদ্ধ ধর্ম্মের মতে সাকার উপাসনা নাই, যোগ- সাধন নাই, জাতিভেদ নাই, এবং নির্ব্বাণ(ঈশ্বরে লীন হওয়া) নাই। ইহার মতে গুণ সাধন সর্ব্বপ্রধান কার্য্য। সুতরাং ঈশ্বরোউপাসনা  ও গুণের অভ্যাস একমাত্র কার্য্য। মুখবন্ধ।


       সকল ধর্ম্মে একটী বিষয় লক্ষিত হয় তাহা গুণ সাধন। কিন্তু হিন্দু ধর্ম্মে একটী বিষয় যেমন গুণ সাধন তাহাও সকারের গুণকীর্ত্তন অর্থাৎ মিথ্যাকে আশ্রয় করিয়া তাহার কীর্ত্তন করেন। যেমন (১) হিন্দু ধর্ম্মে সাকার উপাসনা হয়। (২) যোগ- সাধন তাহাও হিন্দু ধর্ম্মের অন্তর্গত।(৩) জাতিভেদ হিন্দু ধর্ম্মে রন্দ্রে রন্দ্রে মিশিয়াআছে । (৪) নির্ব্বাণ ইহা ও হিন্দু ধর্ম্মে কোন না কোন ও অংশে ইহা আছে। সকারত্ব বাদে শুধু   '' গুণ কীর্ত্তন''টুকুই সত্যধর্ম্মের অন্তর্গত। 

      

     সত্য অনুসারে সাকারের উপাসনা হয় না। কিন্তু উহার অর্চনা আছে। গুণ অনুভূতি দ্বারা প্রকাশ্যমান।

    সত্যধর্ম্ম যে পৃথিবীর সমস্ত প্রচলিত ধর্ম্ম অপেক্ষা সত্য ও উৎকৃষ্টতম, এ ক্ষনে কেবল উহা যে অন্যান্য প্রচলিত ধর্ম্ম অপেক্ষা বিভিন্ন অর্থাৎ আলাদা, তাহাই প্রদর্শিত হ‌ইতেছে। এখানে মহাত্মা গুরুনাথ কি বলিয়াছেন দেখা যাউক।


     (১) সত্য-ধর্ম্মে সাকার উপাসনা নাই, সুতরাং সমস্ত সাকারপূর্ণ ধর্ম্ম হইতে ইহা বিভিন্ন। ( ইহাই প্রথম প্রমাণ আমরা হিন্দু নহি।)

  (২) ইহাতে হঠযোগাদির নেয় কোন প্রকার যোগ সাধনা নাই এবং পদ্মাসনাদ ন্যায় কোন ও প্রকার আসন- সিদ্ধি ও নাই, সুতরাং ইহা সমস্ত যোগ - সাধন ধর্ম্ম হইতে বিভিন্ন। ( ইহাই দ্বিতীয় হিন্দু নহি।) 


    (৩) নিরাকারবাদী প্রতিপদ্য ধর্ম্ম ও স্বল্পকাল প্রচলিত ব্রাহ্মধর্ম হ‌ইতেও ইহা বিভিন্ন। কারণ বেদান্তের অতি ভীষণ অহংকারময় অনার্য্য " সোহহং" প্রভৃতিভাবে ও ইহা দূষিত নহে। এবং ব্রাহ্মধর্ম্মের ন্যায় " একবার মাত্র মনুষ্য জন্মগ্রহণ করে" ইত্যাদি অদূরদর্শিতায় ও ইহা মহত্ত্বশূন্য নহে।( এই তৃতীয় কারণবশত হিন্দি নহি।)


     গুরুদেব লিখিয়াছেন এতদ্বাতীত (মানে এর অতিরিক্ত যদি কর) তুমি যে শ্রেণীর সমাজে আছ, তাহাদিগের ন্যায় কার্য্য করিতেও পার। (এখানে করিতেও পার বলিয়াছেন করিবে বলিলেন না, মনে রাখতে হইবে  অর্থাৎ তুমি হিন্দু সমাজে থাকিলে ( এখানে বলি সত্যধর্ম্মীরা যদি হিন্দুই হইবে তাহা হইলে কেন বললেন হিন্দুধর্ম্মের ন্যায়?) হিন্দুধর্ম্মে নির্দ্ধারিত নিয়মে শ্রাদ্ধ করিতেও পার। এইরূপ খৃষ্টিয়ান বা মুসলমান সমাজে থাকিলে যথাক্রমে তত্তৎ সমাজের অনুরূপ শ্রাদ্ধকার্য্যও করিতে পার। কেন না, ঐ সমস্ত নিয়মও শ্রাদ্ধ সমন্ধে হেয় নহে। বললেন হেয় নহে উৎকৃষ্ট বলিলেন না।

   সত্যধর্ম্মীরা যদি হিন্দুই হইবে তবে আলাদা করিয়া সত্যধর্ম্মীদের জন্য শ্রাদ্ধ ও তর্পণ বিধি লিখিবার প্রয়োজন হ‌ইত না। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ