ওঁং
সুধী সৎসতীগন ---
সর্ব্বাগ্রে অবগত করিতেছি যে প্রবর্ত্তক গুরুদেবের কৃপায় শক্তিযুক্ত হয়ে লিখিতেছি --- এই অতিমারীর ভয়ঙ্কর সংকট কালে সংঘের প্রেমপাশ একমাত্র ভরসা। পরমেশ্বর মঙ্গলময়, তিনি কস্মিনকালেও অমঙ্গলের জন্য বিন্দুমাত্রও কিছু করেন না। "করোনার" মহামারীর মাধ্যমে পরমেশ্বর আমাদের মহা সুযোগ এনে দিয়েছেন, উপাসনা করিবার জন্য। এই রকম উপাসনা করিবার সুযোগ আগে কোনো দিন আসে নাই। ঈশ্বর গুরুনাথ-এর সময়েও আসে নাই। এই সুযোগ হারালে আর উপায় থাকিবে না। বিশেষতঃ আমরা বড়ই উপাসনা বিমুখ নরাধম।
"গুরুনাথ সত্যধর্ম্ম মহামণ্ডল কেন্দ্র"-এর মধূৎসব এখনও নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে চলিতেছে --- আদিষ্ট সাধক প্রতিদিন পাঁচটি (৫) অধিবেশনে উপাসনা বিরামহীন ভাবে সম্পন্ন করিয়া চলিতেছেন ও চলিবেন ---- "মধূর-মিলনোৎসব" সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ঐ উপাসনা অবিরাম ধারায় চালিযাবেন। পাশাপাশি উল্লেখ রইলো যে আগামী মিলনোৎসব-২০২০ আরংঘাটার পরিবর্তে উত্তরপাড়া আদিষ্ট সাধকের গৃহে ছয় (৬) দিন (ইং-১১,১২,১৩,১৪,১৫ ও ১৬ ই-মে) অনুষ্ঠিত হইবে। ১০ ই-মে রবিবার বৈকাল ৬.৩০ মিঃ উৎসব উদ্বোধন হইবে কিন্তু আমাদের ভারতবর্ষের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লাগু করা লকডাউন এখনো ওঠেনি। আমরা দেশের প্রধান কে মান্যতা প্রদান করি। ফলে উৎসব অতিক্রম করিয়া লকডাউন যেদিন উঠিবে, সেই দিন হইতে ছয় (৬) দিনের "মধূর-মিলনোৎসব" আদিষ্ট সাধকের গৃহে অনুষ্ঠিত হইবে। গুরুদেব নির্ধারিত মিলনোৎসবের দিন গুলি যাহা লকডাউনের আওতায় পড়েছে, সকল সৎসতীকে নিজ নিজ গৃহে থেকে প্রতিদিন গুরুপূজা সহ পাঁচটি অধিবেশন করিতে হইবে। উৎসবের পরেরদিন গুলি আদিষ্ট সাধক ঐ একই ভাবে পাঁচটি অধিবেশন চালিয়ে যাবেন, যতদিন না লকডাউন ভারত সরকার তুলে নিচ্ছেন। কেহ চাইলে আদিষ্ট সাধকের সহিত করিতে পারেন, তবে কোন বাধ্যবাধকতা নেই।
গুরুত্ব দিয়ে স্মরণে রাখিতে হইবে যে একমাত্র "গুরুনাথ সত্যধর্ম্ম মহামণ্ডল কেন্দ্র" ব্যতীত দুই বাংলার আর কোথাও অতীত ও বর্তমানে (৬+১)=৭ দিনের মিলনোৎসব হয়নি বা হইতেছে না।
ঈশ্বর গুরুনাথ-এর জন্মদিন উপলক্ষে "জন্মোৎসব" ঈশ্বর নিবারণ মাতাজী নির্ধারণ করিয়া গিয়াছেন কিন্তু এখনও পর্যন্ত গুরুদেবের তিরোধান দিবস উপলক্ষে কোন উৎসব স্থাপিত হয়নি। তাহাও আর অপূর্ন রইল না।
সাধারণতঃ পুরাতন কমিটির কার্যকাল সমাপ্ত হইবে এবং নতুন কমিটি কার্যভার গ্রহণ করিবে। প্রাথমিক নতুন কমিটি গঠন হইবে বিগত বছরের কাজের দক্ষতার ভিত্তিতে এবং সর্ব্বশেষে কমিটি চুড়ান্ত হইবে আদিষ্ট সাধক তথা প্রবর্ত্তক গুরুদেবের সহিত শলাপরামর্শের ভিত্তিতে।
ভবদীয়
সভাপতি(০১.০৫.২০২০)
গুরুনাথ সত্যধর্ম্ম মহামণ্ডল কেন্দ্র
গুরুদেব বলিয়াছেন দেশের প্রধান যিনি তাঁহার কথা পালন করিতে হয়। আমাদের উহাই কর্ত্তব্য।
রাজা (অর্থাৎ প্রধান) যে আমাদিগের গুরু, তাহাতে কোন সন্দেহ নাই। শাস্ত্রকারেরা বলেন যে, "অষ্টাভিশ্চ সুরেন্দ্রাণাং মাত্রাভি নির্ম্মিতো নৃপঃ।" অর্থাৎ রাজা অষ্টদিক্ পালের অষ্টমাত্রায় নির্ম্মিত হইয়াছেন। বস্তুতঃও যাঁহার প্রতি ভগবান্ কোটি কোটি মানবের উল্লিখিত ভার প্রদান করেন, তিনি সামান্য লোক নহেন। সেই ভগবন্নির্দ্দিষ্ট মহাপুরুষ যে ভক্তিভাজন ও গুরুপদ-বাচ্য, তদ্বিষয়ে সংশয় করার কোনও কারণ নাই।
অভিনিবেশ সহকারে বিচার করিলে প্রতীতি হইবে যে, যাঁহারা আমাদিগকে অসৎপথ হইতে নিবৃত্ত করিয়া সৎপথে পরিচালিত করেন, যাঁহারা আমাদিগের উন্নতি-সাধনে নিরন্তর ব্যাপৃত, সুতরাং যাঁহারা আমাদিগের ভক্তিভাজন, তাঁহারাই গুরু বলিয়া অভিহিত। রাজাও আমাদিগকে অসৎপথ হইতে নিবৃত্ত ও সৎপথে পরিচালিত করিতেছেন এবং আমাদিগের উন্নতির জন্য বিবিধ অনুষ্ঠানে নিরন্তর ব্যাপৃত রহিয়াছেন, সুতরাং রাজা আমাদিগের ভক্তির পাত্র ও গুরুজন। এ কারণ রাজার প্রতি ভক্তি ও বিশ্বাস করা অবশ্য কর্ত্তব্য। রাজভক্তি না থাকিলে অনন্ত জগতের রাজা জগদীশ্বরের প্রতি ভক্তি ও বিশ্বাস করা অসাধ্য।
— ঈশ্বর গুরুনাথ সেনগুপ্ত।

0 মন্তব্যসমূহ